মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

সেবার তালিকা

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় মির্জাপুর  কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচী :

 

পল্লী সমাজসেবা আর এস এস কার্যক্রম  বাস্তবায়ন

          সমাজসেবা অধিদফতর বাংলাদেশের সকল উপজেলায় ‘পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম’ এর আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে একটি mgwš^Z কার্যক্রম পরিচালনা করছে । প্রতিটি উপজেলায় কার্যক্রমভূক্ত গ্রামে আর্থ- সামাজিক জরিপের মাধ্যমে লক্ষ্যভূক্ত জনগোষ্ঠীর (দরিদ্র,ভূমিহীন , বিত্তহীন, বেকার,এতিম ,বিধবা, প্রতিবন্ধী, সংশোধনোত্তর/সাজামুক্ত ব্যক্তি বিদ্যালয়ে গমন বয়সী, শিশু- কিশোর ও প্রবীণ ব্যক্তিগণ চিহ্নিকরণ, কর্মদল ও গ্রাম কমিটি গঠনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় সমস্যা, চাহিদা সম্পদ ইত্যাদি নিরূপণপূর্বক স্থানীয় চাহিদানুপাতে আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হয়।মির্জাপুর উপজেলায় সমাজসেবা অধিদফতর হতে মোট প্রাপ্ত বরাদ্দ   

 

  1. আর এস এস কার্যক্রম -                      ১,০০,৩০,৪২৩/-
  2. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রম -         ১৬,৭৮,০৮৭/-

                                              মোট =  ১,১৭,০৮,৫১০/-

                          মোট বিনিযোগ কৃত টাকার পরিমাণ -   ১,১৭,০৮,৫১০/-

                         পূর্ন বিনিয়োগ কৃত টাকার পরিমাণ  -   ২,৫১,৫৩,০০০/-

                           আদায় কৃত সার্ভিস চার্জের পরিমাণ -    ২৮,৩৭,২১০/-

বয়স্ক ভাতা :

           দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম অথবা উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ও পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে  ‘বয়স্কভাতা’ কর্মসূচি প্রবর্তন  করা হয়। প্রাথমিকভাবে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাসহ ১০ জন দরিদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়। পরবর্তীতে দেশের সকল পৌরসভা ও সিটিকর্পোরেশন এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়।

বর্তমান সরকারের নিe©vPbx ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গিকার হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে বয়স্কভাতাভোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে ক্ষমতা গ্রহণোত্তর ২০০৯-১০ অর্থ বছরে বয়স্কভাতাভোগীর সংখ্যা ২০ লক্ষ জন থেকে বৃদ্ধি করে ২২ লক্ষ ৫০ হাজার জনে এবং জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার ২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩০০ টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০১০-১১ অর্থ বছরে বয়স্কভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লক্ষ ২৫ হাজার জন বৃদ্ধি করে ২৪ লক্ষ ৭৫ হাজার জনে উন্নীত করা হয়।  ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার বয়স্ক ব্যক্তিকে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়। চলতি অর্থ বছরে (২০১৬-১৭) এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১৮৯০ কোটি টাকা। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিবিড় তদারকি এবং সমাজসেবা অধিদফতরের সe©স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমে বিগত ৪ বছরে বয়স্কভাতা বিতরণে প্রায় শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। 

বর্তমানে বয়স্কভাতা কাh©ক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো; ২০০৪ সালে প্রণীত বাস্তবায়ন নীতিমালা সংশোধন করে যুগোপযোগীকরণ, অধিক সংখ্যক মহিলাকে ভাতা কvh©ক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে মহিলাদের বয়স ৬৫ বছর থেকে কমিয়ে ৬২ বছর নির্ধারণ, উপকারভোগী নিe©vচনে স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, ডাটাবেইজ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ এবং ১০ টাকার বিনিময়ে সকল ভাতাভোগীর নিজ নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ভাতার অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। wgR©vcyi উপজেলায় সর্বমোট ভাতার সংখ্যা ঃ-

প্রাপ্ত ভাতাভোগীর সংখ্যা

মাসিক ভাতার হার

মোট টাকার পরিমাণ বাৎসরিক

৯৩৩১

৫০০/-

৫,৫৯,৮৬,০০০/-

 

বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা :   

                      ১৯৯৮-৯৯ অর্থ বছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সমাজসেবা অধিদফতররের মাধ্যমে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের ভাতা কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়। ঐ অর্থ বছরে ৪ লক্ষ ৩ হাজার ১১০ জনকে এককালীন মাসিক ১০০ টাকা হারে  ভাতা প্রদান করা হয়। ২০০৩-০৪ অর্থ বছরে এ কর্মসূচিটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। 

বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অধিকতর গতিশীলতা আনয়নের জন্য বর্তমান সরকার পুনরায় ২০১০-১১ অর্থ বছরে এ কর্মসূচি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে প্রবর্তিত এ কর্মসূচি সমাজসেবা অধিদফতর সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১১ লক্ষ ৫০ হাজার জন ভাতাভোগীর জন্য জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে মোট ৬৯০ কোটি টাকা বরাদ্দের সংস্থান রাখা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার পর বিগত ৬ বছরে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা বিতরণে প্রায় শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হওয়ার পর এ কর্মসূচিতে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য বিগত ২ বছরে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত বাস্তবায়ন নীতিমালা সংশোধন করে যুগোপযোগীকরণ, উপকারভোগী নির্বাচনে স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যসহ  অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, ডাটাবেইজ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ। এ ছাড়া ১০ টাকার বিনিময়ে সকল ভাতাভোগীর নিজ নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ভাতার অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। মির্জাপুর উপজেলায় বিধবা ও ¯^vgx নিগৃতীতা মহিলা ভাতা ভোগীর সংখ্যা ঃ-

                                                                                                               

প্রাপ্ত ভাতাভোগীর সংখ্যা

মাসিক ভাতার হার

মোট টাকার পরিমাণ বাৎসরিক

২২৭১

৫০০/-

১,৩৬,২৬,০০০/-

অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম:

বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমঅধিকার ও সমমর্যাদা প্রদানে বদ্ধপরিকর। ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন ২০০১ প্রণয়ন করা হয়। এ আইন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংরক্ষণে অনন্য দলিল। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫, ১৭, ২০ এবং ২৯ অনুচ্ছেদে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমসুযোগ ও অধিকার প্রদান করা হয়েছে। সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ দায়-দায়িত্বের অংশ হিসেবে ২০০৫-০৬ অর্থ বছর হতে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়। শুরুতে ১,০৪,১৬৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে জনপ্রতি মাসিক ২০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়। 

২০০৮-০৯ অর্থ বছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ২ লক্ষ জন এবং জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার ২৫০ হিসেবে বার্ষিক বরাদ্দ ছিল ৬০.০০ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থ বছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৬০ হাজার জনে, মাসিক ভাতার হার ৩০০ টাকায় এবং বার্ষিক বরাদ্দ ৯৩.৬০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০১০-১১ অর্থ বছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৮৬ হাজার জনে উন্নীত করা হয় এবং মাথাপিছু মাসিক ভাতা ৩০০ টাকা টাকা হিসেবে বার্ষিক বরাদ্দ ১০২.৯৬ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মাসিক ৩০০ টাকা হিসেবে ১০২.৯৬ কোটি টাকা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিবিড় তদারকি এবং সমাজসেবা অধিদফতরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমে বিগত ৪ বছরে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণে প্রায় শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।  

বর্তমান সরকারের সময় অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বমহলে  গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা হল, বিদ্যমান বাস্তবায়ন নীতিমালা সংশোধন করে যুগোপযোগীকরণ, উপকারভোগী নিe©vচনে স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, ডাটাবেইজ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ টাকার বিনিময়ে সকল ভাতাভোগীর নিজ নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ভাতার অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। wgR©vcyi উপজেলায় প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ঃ- 

প্রাপ্ত ভাতাভোগীর সংখ্যা

মাসিক ভাতার হার

মোট টাকার পরিমাণ বাৎসরিক

২০৯০

৭০০/-

১,৭৫,৫৬,০০০/-

cÖতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কাh©µg:

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা  এবং দরিদ্র, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধী শিশুকিশোরদের শিক্ষা লাভের সহায়তা হিসেবে ২০০৭-০৮ অর্থ বছর থেকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে শুরুতে ১২ হাজার ২০৯ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় মাসিক উপবৃত্তির হার প্রাথমিক স্তরে ৩০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৪৫০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১০০০ টাকা। 

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় অর্থাৎ ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ১৩ হাজর ৪১ জন এবং বার্ষিক বরাদ্দ ছিল ৬.০০ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থ বছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১৫০ জনে এবং  বার্ষিক বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে ৮ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭০ হাজার  জনে এবং বার্ষিক বরাদ্দ ৪৭ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে ৫০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৭০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১২০০ টাকা  প্রদান করা হচ্ছে।  বিগত  বছরে প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি  বিতরণে প্রায় শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা

মাসিক ভাতার হার

মোট টাকার পরিমাণ বাৎসরিক

১১৯

৫০০/৭০০/১০০০/১২০০

৯,৪৮,০০০/-

দলিত, হরিজন ও বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি

 বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ ।সমাজসেবা অধিদফতরের জরিপমতে বাংলাদেশে প্রায় ১৩,২৯,১৩৫ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং ৭৫,৭০২  জন বেদে জনগোষ্ঠী রয়েছে।  জেলে, সন্যাসী, ঋষি, বেহারা, নাপিত, ধোপা, হাজাম, নিকারী, পাটনী, কাওড়া, তেলী,পাটিকর , বাঁশফোর, ডোমার, রাউত, তেলেগু, হেলা, হাড়ি, লালবেগী, বাল্মিগী, ডোম ইত্যাদি তথাকথিত নিম্নবর্ণের জনগোষ্ঠী এ অনগ্রসর  সম্প্রদায়ভুক্ত। যাযাবর জনগোষ্ঠীকে বেদে সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। বেদে জনগোষ্ঠীর শতকরা ৯৯ ভাগ মুসলিম এবং শতকরা ৯০ ভাগ নিরক্ষর। ৮টি গোত্রে বিভক্ত বেদে জনগোষ্ঠীর মধ্যে মালবেদে, সাপুড়িয়া, বাজিকর, সান্দার, টোলা, মিরশিকারী, বরিয়াল সান্দা ও গাইন বেদে ইত্যাদি। এদের প্রধান পেশা হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসা, তাবিজ-কবজ বিক্রি, সর্প দংশনের চিকিৎসা, সাপ ধরা, সাপের খেলা দেখানো, সাপ বিক্রি, আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য সেবা, শিংগা লাগানো, ভেষজ ঔষধ বিক্রি, কবিরাজি, বানর খেলা, যাদু দেখানো প্রভৃতি।

২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে ৭টি জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়। পাইলট কার্যক্রমভুক্ত ৭টি জেলা হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, নওগাঁ, যশোর ,বগুড়া এবং হবিগঞ্জ । ২০১২-১৩ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৬৬,০০,০০০ (ছিষট্টি লক্ষ) টাকা।  ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নতুন ১৪ জেলাসহ মোট ২১টি  জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয় এবং জেলাগুলো হচ্ছে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, কুমিল্লা, পাবনা, নওগাঁ, দিনাজপুর, নীলফামারী, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং হবিগঞ্জ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৭,৯৬,৯৮,০০০.০০ (সাত কোটি ছিয়ানববই লক্ষ আটানববই হাজার) টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পূর্বের ২১ জেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত অর্থের  পরিমাণ ৯,২২,৯৪,০০০ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৬৪ জেলায় সম্প্রসারন করা হয়েছে এবং বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ১৮ কোটি টাকা।২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৬৪ জেলায় বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ২০,৩০,০০,০০০(বিশ  কোটি ত্রিশ লক্ষ) টাকা। মির্জাপুর উপজেলায় ভাতাভোগীর সংখ্যা ঃ-

 

ভাতাভোগীর সংখ্যা

মাসিক ভাতার হার

মোট টাকার পরিমাণ বাৎসরিক

দলিত হরিজন ০৫

৫০০/-

৩০,০০০/-

দলিত শিক্ষার্থী ০১

৫০০/-

৬,০০০/-

 

 

হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি

হিজড়া জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের  মোট জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও আবহমান কাল থেকে এ জনগোষ্ঠী অবহেলিত ও অনগ্রসর গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। সমাজে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার এ জনগোষ্ঠীর পারিবারিক, আর্থসামাজিক, শিক্ষা ব্যবস্থা, বাসস্থান, স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সর্বোপরি তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতধারায় এনে দেশের সার্বিক উন্নয়নে তাদেরকে সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে সরকার এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সমাজসেবা অধিদফতরের জরিপমতে বাংলাদেশে হিজড়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।

২০১২-২০১৩ অর্থ বছর হতে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে দেশের ৭টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। ৭টি জেলা হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, খুলনা ,বগুড়া এবং সিলেট। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল ৭২,১৭,০০০(বাহাত্তর লক্ষ সতের হাজার) টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে নতুন ১৪ টি জেলাসহ মোট ২১টি জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং জেলাগুলো হচ্ছে ঢাকা, গাজীপুর, নেত্রকোণা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, কুমিল্লা, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, সিলেট। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৪,০৭,৩১,৬০০ (চার কোটি সাত লক্ষ একত্রিশ হাজার ছয়শত টাকা)। ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের কর্মসূচির বরাদ্দ ৪,৫৮,৭২,০০০.০০ (চার কোটি আটান্ন লক্ষ বাহাত্তর হাজার) টাকা।২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৬৪ জেলায় সম্প্রসারন করা হয়েছে এবং বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৮,০০,০০,০০০(আট কোটি) টাকা।২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৬৪ জেলায় বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৯,০০,০০,০০০(নয় কোটি) টাকা। মির্জাপুর উপজেলায় ভাতাভোগীর সংখ্যা ঃ-

 

ভাতাভোগীর সংখ্যা

মাসিক ভাতার হার

মোট টাকার পরিমাণ বাৎসরিক

০৮

৬০০/-

৫৭,৬০০/-

 

ক্যাপিটেশন গ্রান্ট

ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের জনগণ অবহেলিত দুঃস্থ এতিম শিশুদের প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের সকল ধর্মীয় জনগনেরই এতিম শিশুদের লালনপালনের জন্য বেসরকারিভাবে এতিমখানা পরিচালনা করে আসছে। বেসরকারি এসকল এতিমখানা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সমাজসেবা অধিদফতর হতে সহযোগিতা প্রদান করা হয়। বেসরকারিভাবে এতিমখানাসমূহ প্রথমতঃ স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী নিবন্ধন প্রদান এবং পরবর্তীতে নিবন্ধন প্রাপ্ত বেসরকারি এতিমখানাসমূহের শিশুদের প্রতিপালন, চিকিৎসা এবং শিক্ষা প্রদানের জন্য আর্থিক সহায়তা করা হয় যা ক্যাপিটেশন গ্রান্ট নামে পরিচিত। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বেসরকারি এতিমখানার প্রায় ৬২ হাজার এতিম শিশুকে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রদান করা হচ্ছে। দরিদ্র এতিম শিশুদের মানবসম্পদে পরিনত করাই ক্যাপিটেশন গ্রান্টের প্রধান উদ্দেশ্য।

কাক্রম বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টগণ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন সমাজসেবা অধিদফতরের কার্যক্রম শাখা বেসরকারি এতিমখানা নিবন্ধন এবং প্রতিষ্ঠান শাখা ক্যাপিটেশন গ্রান্ট পরিচালনা করে। পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, সমাজসেবা অফিসার সদর দপ্তর পর্যায়ে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট কার্যক্রম পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট। জেলা পর্যায়ের উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, রেজিস্ট্রেশন অফিসার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এবং শহর সমাজসেবা অফিসার মাঠ পর্যায়ে বেসরকারি এতিমখানার ক্যাপিটেশন গ্রান্ট কার্যক্রম তদারকি এবং মাঠ পর্যায় ও সদর দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকেন। 

সেবা

১৮ বছর বয়স পর্যন্ত এতিম শিশুদের প্রতিপালনের জন্য বেসরকারি এতিমখানায় আর্থিক অনুদান প্রদান;স্নেহ-ভালবাসা ও আদর-যত্নের সাথে লালন পালন নিশ্চিতকরণ;আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান নিশ্চিতকরণ;শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক উৎকর্ষতা সাধন নিশ্চিতকরণ;শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে সহায়তা প্রদান;পুনর্বাসন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।wgR©vcyi উপজেলায়  ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রাপ্ত এতিমখান সংখ্যা ০২ টি ।

 

নিবাসী সংখ্যা

মাসিক হার

মোট টাকার পরিমাণ বাৎসরিক

১৬ জন

১০০০/-

১,৯২,০০০/-

 

ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীর আর্থিক সহায়তা

ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীর আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিটি ২০১৩-১৪ অর্থ বছর হতে চালু হয়েছে। ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগে আক্তান্ত গরীব রোগীদের সনাক্ত করে সমাজসেবা অধিদফতরের জনবল, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনের সহযোগিতায় এ নীতিমালা অনুসরণ করে প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়নপূর্বক গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যরালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগে আক্তান্ত গরীব রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। আক্রান্ত রোগীর পরিবারের ব্যয়ভার বহনে সহায়তা করা হয়। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করা হয়। ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগে আক্তান্ত গরীব রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে সমগ্র বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মির্জাপুর উপজেলায় ১০ জন ক্যান্সার রোগীকে ৫০,০০০/- টাকা করে চেক বিতরণ করা হয়।

রোগীকল্যাণ সমিতি

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমকে জোরদারকরণের জন্য প্রতিটি হাসপাতালে আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত রোগীকল্যাণ সমিতি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যমান রয়েছে।  এ সংগঠন ১৯৬১ সনের ৪৬ নং ‘স্বেচ্ছামূলক সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান (রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ) অর্ডিন্যান্স’ এর আওতায় নিবন্ধিকৃত। সংগঠনটি সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সমাজকর্মী, দানশীল ও বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত। নিবন্ধিত সমিতিগুলো মূলত হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমকে সার্বিক সহায়তা প্রদানসহ রোগীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে রোগীকল্যাণ সমিতির তহবিল সংগ্রহ ও সেবার মান উন্নয়নের জন্য পরামর্শ প্রদান করে থাকে। এ পর্যন্ত মোট ৫০৯টি রোগীকল্যাণ সমিতি নিবন্ধিত হয়েছে। 


এ কার্যক্রমের শুরু থেকে জুন, ২০১২ পর্যন্ত হাসপাতালে আগত গরীব, অসহায় ও দুস্থ রোগীদের রোগীকল্যাণ সমিতির মাধ্যমে ঔষধ, রক্ত, বস্ত্র, ক্রাচ, হুইলচ্ছোর, কৃত্রিম অঙ্গ প্রদানের মাধ্যমে উপকৃত এবং আর্থিক, সামাজিক ও অন্যান্যভাবে উপকৃত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ৮০ লক্ষ ৭৫ হাজার ৭৫৮ জন | মির্জাপুর উপজেলায় উপকৃত রোগীর সংখ্যা ঃ

অর্থ বছর

অর্থের পরিমান

উপকার ভোগী রোগীর সংখ্যা

২০১৬-২০১৭

১,১০,০০০/-

৩৫৪ জন

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা :

 

 

            উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় মির্জাপুর কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতাভোগী মোট ৮৬২ জন ভাতা পান। মাসিক ১০,০০০/- টাকা হারে ভাতা প্রদানে সর্বমোট বাৎরিক ১০,৩৪,৪০,০০০/- টাকা ব্যয় হয়।

 

 

 

 

 

 

     

ছবি


সংযুক্তি



Share with :

Facebook Twitter